মিডি: মহেশখালী–মাতারবাড়ি জীবাশ্ম জ্বালানির মেগাপ্রকল্প
জীবাশ্ম জ্বালানির এমন এক মেগাপ্রকল্পে জাপান বিনিয়োগ করছে যার ভার বাংলাদেশ বইতে পারবে না।
নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ শক্তি যখন সস্তা ও সহজলভ্য হয়ে উঠেছে, তখনই জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ একটি উপকূলে ১৩ গিগাওয়াট পর্যন্ত নতুন এলএনজি এবং একটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে মিডি প্রকল্প।
মিডি-এর পেছনের কোম্পানিগুলোকে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান
মিডি ভিডিও
জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্প: মিডি আসলে কী নির্মাণ করতে চায়
পরিবেশ দূষণকারী জীবাশ্ম জ্বালানিই জাপানের মিডি মেগা প্রকল্পের মূল ভিত্তি
- ১৩ গিগাওয়াট নতুন এলএনজি ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন: জাইকার মাস্টারপ্ল্যানে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১৩ গিগাওয়াট পর্যন্ত এলএনজিচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
- প্রতিদিন ১,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের ক্ষমতাসম্পন্ন একটি নতুন স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল।
- অ্যামোনিয়া ও হাইড্রোজেন—যাকে বলা হচ্ছে ‘রূপান্তরকালীন জ্বালানি’ মিডি পরিকল্পনায় কার্বন কমানোর খোঁড়া যুক্তিতে অ্যামোনিয়া ও হাইড্রোজেনের সহ-দহন প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অথচ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে তৈরি গ্রে অ্যামোনিয়া পোড়ালে সরাসরি কয়লা পোড়ানোর চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ কার্বন ছড়ায়। তাছাড়া এই প্রযুক্তির খরচ ব্যাটারিচালিত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ শক্তির তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি। একইভাবে জীবাশ্ম গ্যাস থেকে তৈরি ব্লু হাইড্রোজেনও সাধারণ জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর চেয়ে কোনোভাবেই পরিবেশবান্ধব নয়।
মিডি বৈশ্বিক জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা থেকে সরে আসবে।
- মিডি -এর এলএনজি প্রকল্পগুলো কেন প্যারিস চুক্তির পরিপন্থী: মিডি -এ প্রস্তাবিত নতুন এলএনজি বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো মূলত বিদ্যুতের ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো চাহিদার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এটি প্যারিস চুক্তির বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১.৫° সেলসিয়াসে আটকে রাখার লক্ষ্যের সাথে সাংঘর্ষিক।
- বাংলাদেশের মতো চরম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য ২০৭০ সালের 'নেট জিরো' লক্ষ্য অনেক বেশি দেরি হয়ে যায়: জাইকার রূপরেখা অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০৭০ সালের দিকে গিয়ে কার্বন নির্গমন শূন্যের কোঠায় নামাবে, যেখানে ২০৫০ সালেও দেশের প্রায় ৬০ ভাগ বিদ্যুৎ আসবে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে। অথচ জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্পে আর কোনো সরকারি অর্থায়ন না করার ব্যাপারে খোদ জাপানেরই 'জি-৭' অঙ্গীকার রয়েছে। জাইকার এই পরিকল্পনা সেই অঙ্গীকারের সাথে সাংঘর্ষিক।
স্থানীয় সম্প্রদায়ের উপর একটি মারাত্মক আঘাত
-
চট্টগ্রামের উপকূলীয় জনগোষ্ঠী ইতোমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলা করছে। এরই মধ্যে তাদের মাতারবাড়ি-১ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মিডি -এর এলএনজি পরিকল্পনার মতো জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্পের বিরূপ প্রভাবও মোকাবিলা করতে হবে।
-
মিডি -এর জন্য আনুমানিক ৭৩ হাজার একর জমির প্রয়োজন হবে। এর ফলে নিচের এলাকাগুলোর মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন এবং হারাতে পারেন তাদের ভিটেমাটি, ব্যবসা, স্কুল, কাজ ও রুটি-রুজি: ধলঘাটা, পানিরছড়া, মহুরি গোনা, মাতারবাড়ি, উত্তর নলবিলা, কালীগঞ্জ, কালারমারছড়া, হোয়ানক, অমাবস্যাখালী এবং মহেশখালী।
-
সম্ভাব্য ১ লাখ থেকে ৭ লাখ ৭৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন। মাতারবাড়ি-১ প্রকল্পের অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায়, পুরো একটি জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক তাদের বসতভিটা ও সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করা হতে পারে। এর ফলে মানুষের জীবিকা, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ এবং কবরস্থান হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত মিডি পরিকল্পনার জন্য কোনো সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন হয়েছে বলে জানা যায়নি।
-
হারিয়ে যাচ্ছে বাপ-দাদার আমলের পেশা। মাতারবাড়ি ও মহেশখালীর মানুষ লবণ ও চিংড়ি চাষের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কৃষিকাজ এবং আশপাশের নদী ও বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল। মাতারবাড়ি-১ প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলাকালে হাজারো মানুষ তাদের জীবিকা হারিয়েছিলেন এবং এদের অনেকেই এই বিপর্যয়ের জন্য সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পাননি।
মিডি নিয়ে কিছু কথা (সচরাচর জিজ্ঞাস্য)
মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ (মিডি) কী?
মিডি হলো বাংলাদেশের উপকূলে জাপান-সমর্থিত একটি বিশাল শিল্প ও জ্বালানি মেগাপ্রকল্প, যার সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে জাইকা। এর মহাপরিকল্পনায় চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চল মহেশখালী ও মাতারবাড়ীর কয়েক হাজার একর জমি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই প্রকল্পের কেন্দ্রে রয়েছে ১৩ গিগাওয়াট পর্যন্ত নতুন এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যান্য শিল্পপরিকল্পনা।
মিডি-এর নেতৃত্বে কে আছে?
বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।
মিডি প্রকল্পে অর্থায়ন করছে কে?
মিডি উদ্যোগটি মূলত জাইকার মাধ্যমে সমন্বয় ও অর্থায়ন করছে জাপান। আগামী ৩০ বছরে এই প্রকল্পে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
মিডি -এর এলএনজি সম্প্রসারণ কেন আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ?
এলএনজি আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা তৈরি করে এবং কার্বন নির্গমন বাড়ায়। পাশাপাশি এটি বাংলাদেশকে এলএনজির অস্থিতিশীল বাজারের ওপর নির্ভরশীল করে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির খরচ ক্রমাগত কমতে থাকায় এটি অর্থনৈতিকভাবে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশ তার প্রয়োজনীয় এলএনজির বেশির ভাগই আমদানি করে এবং স্পট মার্কেটের অস্থিতিশীল মূল্যের কারণে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শুধু ২০২২-২০২৪ সালের মধ্যেই এই আমদানির ব্যয় প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি সস্তা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন এলএনজি প্রকল্পগুলো পরিত্যক্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে।
বাংলাদেশে কি এলএনজির চেয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সস্তা?
হ্যাঁ। সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, ব্যাটারি স্টোরেজ এবং আধুনিক গ্রিড উন্নয়নের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় ও কার্বন নির্গমন কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে পারে। ব্লুমবার্গএনইএফ-এর তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশে নতুন বিদ্যুতের সবচেয়ে সস্তা উৎসে পরিণত হয়েছে সৌরবিদ্যুৎ। এছাড়া, ২০৩০ সালের মধ্যে স্টোরেজ সুবিধাসহ সৌরবিদ্যুতের খরচ নতুন গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের চেয়েও কমে যাবে। কারিগরিভাবে বাংলাদেশে ১৫৬ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ এবং ১৫০ গিগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
মিডি-এর অধীনে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো আগামী কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করবে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি রূপান্তরে আন্তর্জাতিক সরকারি অর্থায়ন কীভাবে সহায়তা করবে, তারও রূপরেখা তৈরি করবে এই উদ্যোগ। জাপান এবং চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও অস্ট্রেলিয়ার মতো অন্যান্য দেশের সামনে পরিবেশদূষণকারী জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভবিষ্যৎকে সমর্থন করার সুযোগ রয়েছে।
জাপান এবং দেশটির কোম্পানিগুলোর কেন নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ করা উচিত?
এলএনজিতে বাড়তি বিনিয়োগ জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে উচ্চ-ব্যয় ও উচ্চ-নির্গমনযুক্ত এমন এক সম্পদের সঙ্গে যুক্ত করছে, যা পরিত্যক্ত হওয়ার ঝুঁকি, জলবায়ু-অর্থায়ন সংক্রান্ত নজরদারি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষতির সম্মুখীন। অথচ একই পুঁজি ও কারিগরি দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ, ব্যাটারি এবং আধুনিক গ্রিড তৈরি করা সম্ভব, যা তুলনামূলক সস্তা ও দ্রুত করা যায়। এটি জীবাশ্ম জ্বালানিতে সরকারি অর্থায়ন বন্ধ করার ক্ষেত্রে জি-৭ ভুক্ত দেশ হিসেবে জাপানের প্রতিশ্রুতির সঙ্গেও পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সোর্স
- BloombergNEF, "Solar Soon to be the Most Affordable Electricity Source for Bangladesh," 2025. https://about.bnef.com/insights/clean-energy/solar-soon-to-be-the-most-affordable-electricity-source-for-bangladesh-report/
- Centre for Research on Energy and Clean Air (CREA), air-quality implications of coal–ammonia co-firing (cited in JACSES MIDI report). https://energyandcleanair.org/publication/air-quality-implications-of-coal-ammonia-co-firing/
- CLEAN, MIDI Master Plan, 2025. https://www.cleanbd.org/_files/ugd/1e88d4_be170a7d2bbe450bb25a3cb5b58f3e9f.pdf
- Dhaka Tribune, "Japanese influence over Bangladesh's Power Master Plan scrutinized at energy prosperity conference," Dec 2024. https://www.dhakatribune.com/bangladesh/power-energy/367972/
- Ember, "Spot market LNG purchases can cost Bangladesh about $11 billion between 2022 & 2024," 2024. https://ember-energy.org/latest-insights/spot-market-lng-purchases-can-cost-bangladesh-about-11-billion-between-2022-2024/
- Energy Tracker Asia, "The Solar and Wind Power Potential in Bangladesh." https://energytracker.asia/solar-and-wind-power-potential-in-bangladesh/
- Gas Outlook, "MIDI: Bangladesh's ambitious, controversial coastal venture," Feb 2026. https://gasoutlook.com/analysis/midi-bangladeshs-ambitious-controversial-coastal-venture/
- IEEFA, "Navigating Bangladesh's energy trilemma" (new Renewable Energy Policy, June 2025). https://ieefa.org/resources/navigating-bangladeshs-energy-trilemma
- JACSES / Fair Finance Guide Japan, "JICA support for 13GW LNG power expansion in Bangladesh — MIDI Masterplan inconsistent with the Paris Agreement," Sep 2025. https://jacses.org/en/wp-content/uploads/2025/09/EN_-MIDI-report.pdf
- JACSES, "JICA supported energy master plan in Bangladesh, soaked in fossil fuels and not aligned with the Paris Agreement," 2023. https://jacses.org/en/395/
- JACSES, Friends of the Earth Japan & Mekong Watch, joint statement on JICA loan disbursement and Matarbari corruption case, May 2025. https://jacses.org/en/592/
- JICA, MIDI – Strategic Vision and Economic Impact, 2023. https://openjicareport.jica.go.jp/pdf/1000050277.pdf
- MarineLink, "Bangladesh's ambitious wind energy plans are slow to progress," Apr 2026. https://www.marinelink.com/blogs/blog/bangladeshs-ambitious-wind-energy-plans-are-slow-to-progress-104638
- Market Forces, Expensive LNG Expansion: How foreign gas interests are a climate disaster for Bangladesh, 2024. https://fossilfreechattogram.com/Bangladesh-LNG-Report-2024-English-Full-Report
- Market Forces, MIDI Fact Sheet, 2023. https://fossilfreechattogram.com/wp-content/uploads/2023/10/English_Factsheet_MIDI.pdf
- Oil Change International, "'We cannot go to the sea now.' Massive Japanese fossil fuel project destroys Bangladeshi communities and worsens climate crisis," Dec 2025. https://oilchange.org/blogs/we-cannot-go-to-the-sea-now/
- Zero Carbon Analytics, "Bangladesh's reliance on LNG increases financial, energy and climate risks," 2025. https://zerocarbon-analytics.org/energy/bangladeshs-reliance-on-lng-increases-financial-energy-and-climate-risks/
চট্টগ্রাম অঞ্চলের কোন কোন এলাকায় মিডি (MIDI) প্রকল্পের প্রভাব পড়বে, তা এই মানচিত্রে
আসুন চট্টগ্রামকে জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত করি!
জাইকা, জেরা, সুমিতোমো ও সংশ্লিষ্ট অন্য কোম্পানিগুলোকে একটি বার্তা পাঠিয়ে চট্টগ্রামকে বাঁচান। প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজিতে নয়, কোম্পানিগুলো চাইলে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎতে অর্থায়ন করতে পারে। এতে বদলে যেতে পারে এদেশের বিদ্যুৎ খাত, পাশাপাশি রক্ষা পাবে স্থানীয় মানুষ, জীববৈচিত্র্য ও দেশের অর্থনীতি।
ব্যয়বহুল এলএনজি’র বিস্তার: বিদেশিদের এলএনজি-সংক্রান্ত স্বার্থ যেভাবে বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু ঝুঁকি তৈরি করছে
November 2024
বর্তমানে বাংলাদেশ বেশ বড় ধরনের একটি জ্বালানী সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। উচ্চমূল্যে আমদানিকৃত জীবাশ্ম গ্যাস থেকে তৈরি বিদ্যুতের ওপর অতিনির্ভরশীলতার ফলেই দেশে বেড়েছে লোডশেডিংও।
এমতাবস্থায়, বাংলাদেশের উচিৎ ছিলো অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেরি উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য দেশীয় জ্বালানিকে গুরুত্ব দেয়া। অথচ, তা না করে বিদেশী স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ পরিবেশ বান্ধব, সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হতে পারে, যা পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের জন্য কমমূল্যে সাশ্রয়ী বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে পারে।
