যে কার্বন বোমার ভার আমরা বইতে পারব না
বাংলাদেশের জ্বালানি ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অগ্রণী ভূমিকা রাখা কোম্পানিগুলো চাইলে এখনও কয়লা ও গ্যাসের পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে বেছে নিতে পারে।
এদেশের মানুষ, মনোমুগ্ধকর সমুদ্রসৈকত ও বনাঞ্চল, দেশের অর্থনীতি এবং আমাদের জলবায়ুকে সুরক্ষিত রাখতে বাংলাদেশকে জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত রাখা জরুরি।
মিডি চট্টগ্রামে ভারী শিল্প এবং জীবাশ্ম গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করছে, যা স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে।
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ভিত্তিক আরও ১৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন
৭৩ হাজার একর জমির প্রয়োজন
বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে প্রায় ৭ লাখ ৭৬ হাজার মানুষ
আলোচনার কেন্দ্রে যেসব কোম্পানি


জাপানের সরকারি অর্থায়ন বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করছে।
📍 জাপান

জাপানের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ কোম্পানি জেরা (JERA)। বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলএনজি খাতে বড় বিনিয়োগ এই প্রতিষ্ঠানের।
📍 জাপান

বিতর্কিত মাতারবাড়ি-১ কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাথে যুক্ত ছিল সুমিতোমো কর্পোরেশন। নতুন এলএনজি প্রকল্পগুলোতেও তারা সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।
📍 জাপান

বাংলাদেশে এলএনজির অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী এবং দুটি ভাসমান গ্যাস আমদানি অবকাঠামোর পরিচালনাকারী।
📍 যুক্তরাষ্ট্র
চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ হোক জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত
নবায়নযোগ্য জ্বালানি যখন সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন বিকল্প হতে পারতো, তখন জাপান সরকার-সমর্থিত কিছু কোম্পানি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ এই উপকূলীয় অঞ্চলকে একটি বিশাল এলএনজি (LNG) হাবে পরিণত করার পরিকল্পনা করছে।
স্থানীয় জনগোষ্ঠী
মিলবে নির্মল ও স্বাস্থ্যকর বাতাস, মজবুত হবে স্থানীয় অর্থনীতি।
জলবায়ু
নতুন এলএনজি অবকাঠামো মানেই আগামী কয়েক দশক ধরে গ্যাস নির্গমন অব্যাহত থাকা, যা জলবায়ু সংকটকে আরও ভয়াবহ করবে।
জীববৈচিত্র্য
কয়লা, জীবাশ্ম গ্যাস এবং এলএনজি প্রকল্প চট্টগ্রামের অপরূপ সমুদ্রসৈকত ও বনাঞ্চলের জন্য হুমকি।
এলএনজি নয়, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ শক্তি
চট্টগ্রামের জন্য সবচেয়ে ভালো বিকল্প হলো বাতাস ও সূর্যের আলো থেকে পাওয়া বিদ্যুৎ শক্তি এবং ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থা।
চট্টগ্রামের মানুষের কথা
চট্টগ্রাম অঞ্চলের কোন কোন এলাকায় মিডি (MIDI) প্রকল্পের প্রভাব পড়বে, তা এই মানচিত্রে
আসুন চট্টগ্রামকে জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত করি!
জাইকা, জেরা, সুমিতোমো ও সংশ্লিষ্ট অন্য কোম্পানিগুলোকে একটি বার্তা পাঠিয়ে চট্টগ্রামকে বাঁচান। প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজিতে নয়, কোম্পানিগুলো চাইলে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎতে অর্থায়ন করতে পারে। এতে বদলে যেতে পারে এদেশের বিদ্যুৎ খাত, পাশাপাশি রক্ষা পাবে স্থানীয় মানুষ, জীববৈচিত্র্য ও দেশের অর্থনীতি।
ব্যয়বহুল এলএনজি’র বিস্তার: বিদেশিদের এলএনজি-সংক্রান্ত স্বার্থ যেভাবে বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু ঝুঁকি তৈরি করছে
November 2024
বর্তমানে বাংলাদেশ বেশ বড় ধরনের একটি জ্বালানী সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। উচ্চমূল্যে আমদানিকৃত জীবাশ্ম গ্যাস থেকে তৈরি বিদ্যুতের ওপর অতিনির্ভরশীলতার ফলেই দেশে বেড়েছে লোডশেডিংও।
এমতাবস্থায়, বাংলাদেশের উচিৎ ছিলো অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেরি উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য দেশীয় জ্বালানিকে গুরুত্ব দেয়া। অথচ, তা না করে বিদেশী স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ পরিবেশ বান্ধব, সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হতে পারে, যা পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের জন্য কমমূল্যে সাশ্রয়ী বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে পারে।
