কোম্পানি + প্রকল্পসমূহ

চট্টগ্রামে জীবাশ্ম গ্যাস ও এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের পেছনে রয়েছে জাপানি প্রতিষ্ঠান জাইকা, জেরা এবং সুমিতোমো।

জাপান এমন একটি জীবাশ্ম জ্বালানি মেগাপ্রকল্পে অর্থায়ন করছে, যার ব্যয় বহন করার সামর্থ্য বাংলাদেশের নেই।

নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎতে বিনিয়োগ না করে, মিডি (মহেশখালী–মাতারবাড়ি সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন) নামের এই প্রকল্পের মাধ্যমে একটি ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলে ১৩ গিগাওয়াটের নতুন এলএনজি ও একটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পাকাপাকি বন্দোবস্ত করা হচ্ছে।

আলোচনার কেন্দ্রে যেসব কোম্পানি

JICA logoJBIC logo

জাপান সরকারের অর্থায়ন বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করছে

📍 জাপান

read more
  • জাপানের সরকারি অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান জাইকা এবং জেবিআইসি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে।
  • জাইকা ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে আসছে। বর্তমানে তারা জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর 'মিডি' মেগাপ্রকল্পের সাথে সরাসরি যুক্ত।
  • জেবিআইসি অতীতে বাংলাদেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে। সম্প্রতি তারা এমন একটি চুক্তি সই করেছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে জাপানি কোম্পানিগুলোর ব্যবসার প্রসার ও নতুন সুযোগ তৈরি করা।

Jera logo

জেরা (JERA) জাপানের বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশে জীবাশ্ম গ্যাস ও এলএনজি খাতে অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী।

📍 জাপান

read more
  • সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল-এ মালিকানা থাকার সুবাদে ‘জেরা’ বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। ২০২৫ সালে 'জেরা বাংলাদেশ' নামে দেশে একটি অফিসও চালু করা হয়েছে।
  • ‘জেরা’ এখন মাতারবাড়ি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্পের দরপত্রে অংশ নিচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে আরও কয়েক বিলিয়ন ডলারের এলএনজি ব্যবসার পরিকল্পনা করছে তারা।

Sumitomo Corporation logo

সুমিতোমো কর্পোরেশন মাতারবাড়ি-১ কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বিতর্কিত প্রকল্পের সাথে যুক্ত ছিল এবং নতুন এলএনজি প্রকল্পগুলোর প্রতিও তাদের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে।

📍 জাপান

read more
  • বিতর্কিত মাতারবাড়ি-১ কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে যুক্ত থাকার পর সুমিতোমো করপোরেশন কথা দিয়েছিল, তারা মাতারবাড়ি-২ প্রকল্পে আর যুক্ত থাকবে না (যে প্রকল্পটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল)।
  • প্রস্তাবিত মাতারবাড়ি এলএনজি টার্মিনালের দরপত্রে অংশ নিয়েছে সুমিতোমো।

Excelerate Energy logo

বাংলাদেশে এলএনজির অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী এবং দুটি ভাসমান গ্যাস আমদানি অবকাঠামোর পরিচালনাকারী।

📍 Japan

read more
  • বাংলাদেশের মোট জীবাশ্ম গ্যাসের প্রায় ২৫ শতাংশই আমদানি করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এলএনজি কোম্পানি 'এক্সেলারেট এনার্জি'।
  • বাংলাদেশের মহেশখালীতে সাগরের বুকে থাকা একমাত্র ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ দুটি পরিচালনা করে ‘এক্সেলারেট এনার্জি’।
  • প্রতিষ্ঠানটি মহেশখালী ফ্লোটিং এলএনজি টার্মিনালটির মালিক, আর সামিট এলএনজি টার্মিনালটি তারা শুধু পরিচালনা করে।
  • আগামী ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন এলএনজি আমদানির জন্য ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে, তাতে ‘এক্সেলারেট এনার্জি’ যুক্ত আছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

আলোচনার কেন্দ্রে যেসব প্রকল্প

মিডি

মহেশখালী–মাতারবাড়ি সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (মিডি) বাংলাদেশকে পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ-নির্ভর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে জীবাশ্ম গ্যাস ও এলএনজি আমদানির ওপর আরও দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরশীলতার মধ্যে আবদ্ধ করবে।

[মিডি সম্পর্কে আরও পড়ুন

মাতারবাড়ি এলএনজি আমদানির টার্মিনাল

প্রস্তাবিত মাতারবাড়ি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল বাংলাদেশকে ব্যয়বহুল আমদানিকৃত গ্যাসের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল করে তুলতে পারে।. এই প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ-ভিত্তিক বিকল্প সম্পর্কে আরও জানুন।.

মাতারবাড়ি ১ কয়লা বিদ্যুৎ

মাতারবাড়ি-১ কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ও এর কার্যক্রম স্থানীয় মানুষ এবং পরিবেশের ওপর মারাত্মক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।

এই প্রকল্প এবং জলবায়ু ও মানুষের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আরও পড়ুন।

আসুন চট্টগ্রামকে জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত করি!

জাইকা, জেরা, সুমিতোমো ও সংশ্লিষ্ট অন্য কোম্পানিগুলোকে একটি বার্তা পাঠিয়ে চট্টগ্রামকে বাঁচান। প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজিতে নয়, কোম্পানিগুলো চাইলে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎতে অর্থায়ন করতে পারে। এতে বদলে যেতে পারে এদেশের বিদ্যুৎ খাত, পাশাপাশি রক্ষা পাবে স্থানীয় মানুষ, জীববৈচিত্র্য ও দেশের অর্থনীতি।

ব্যয়বহুল এলএনজি’র বিস্তার: বিদেশিদের এলএনজি-সংক্রান্ত স্বার্থ যেভাবে বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু ঝুঁকি তৈরি করছে

November 2024

বর্তমানে বাংলাদেশ বেশ বড় ধরনের একটি জ্বালানী সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। উচ্চমূল্যে আমদানিকৃত জীবাশ্ম গ্যাস থেকে তৈরি বিদ্যুতের ওপর অতিনির্ভরশীলতার ফলেই দেশে বেড়েছে লোডশেডিংও।

এমতাবস্থায়, বাংলাদেশের উচিৎ ছিলো অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেরি উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য দেশীয় জ্বালানিকে গুরুত্ব দেয়া। অথচ, তা না করে বিদেশী স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ পরিবেশ বান্ধব, সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হতে পারে, যা পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের জন্য কমমূল্যে সাশ্রয়ী বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে পারে।