জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যৎ
চট্টগ্রামের সামনে জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ শক্তির ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এলএনজি প্রকল্পের পেছনে যে বিপুল অর্থ ঢালার প্রস্তাব করা হয়েছে, সেই টাকা দিয়ে অনায়াসেই নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে বিনিয়োগ করা যায়। এতে যেমন দেশের বিদ্যুৎ খাতের চিত্র বদলে যাবে, তেমনি রক্ষা পাবে স্থানীয় মানুষ, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতি।
যুক্ত হোন এই জোরালো আন্দোলনে। চট্টগ্রামসহ সারা বাংলাদেশকে জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত করার দাবি তুলুন।
নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ শক্তির গুরুত্ব
মিডি মাস্টার প্ল্যান বাংলাদেশের জ্বালানি ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে। এই পরিকল্পনায় এলএনজির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ শক্তিকে যুক্ত করা আবশ্যক।
এলএনজির বদলে বাংলাদেশ নিচের নবায়নযোগ্য প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ করতে পারে:
☀ সৌর বিদ্যুৎ
🌬 বায়ু বিদ্যুৎ
🔋 ব্যাটারি স্টোরেজ
⚡ আধুনিক বিদ্যুৎ গ্রিড
নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করলে বাংলাদেশের যে লাভগুলো হবে:
- কয়লা ও এলএনজির মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে
- জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে
- দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমে আসবে
- স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে
- কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত কার্বন ও বায়ুদূষণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসবে
- বাংলাদেশের জলবায়ু সংক্রান্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে।
কী হারাতে চলেছি আমরা?
চট্টগ্রামের বুকেই রয়েছে নয়নাভিরাম সব সৈকত আর দেশের সর্বশেষ রেইনফরেস্ট।
জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্পের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে এই অঞ্চল ও এর বাসিন্দারা।
বায়ু ও সৌর বিদ্যুৎ শক্তির মতো নবায়নযোগ্য উৎস কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ তার বিদ্যুতের চাহিদা খুব সহজেই মেটাতে পারে। এর জন্য বিদেশ থেকে ব্যয়বহুল ও পরিবেশ বিধ্বংসী জ্বালানি আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই।
জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি
গ্রেট এশিয়ান এলিফ্যান্ট, ক্লাউডেড লেপার্ড ও চাইনিজ প্যাঙ্গোলিনসহ বিশ্বের অন্তত ২৬টি বিপন্ন প্রাণীর শেষ আশ্রয়স্থল পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমি।
চট্টগ্রাম
নয়নাভিরাম সৈকত
বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার।
সুনীল জলরাশি, সোনালী বালুকাবেলা ও উষ্ণ আবহাওয়ার টানে প্রতি বছর অন্তত ১ কোটি পর্যটক ছুটে যান ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ এই সৈকতে।
বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব জ্বালানির যাত্রায় কোম্পানিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
চট্টগ্রামে জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ করা জাইকা, জেবিআইসি, সুমিতোমো এবং এক্সেলারেট এনার্জির মতো জাপানি ও মার্কিন কোম্পানিগুলোর সামনে এখনো সুযোগ রয়েছে। তারা বাংলাদেশের জন্য সৌর বিদ্যুৎ, বায়ু বিদ্যুৎ, ব্যাটারি স্টোরেজ এবং আধুনিক গ্রিড উন্নয়নের মতো নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে সহায়তা করতে পারে।
আসুন চট্টগ্রামকে জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত করি!
জাইকা, জেরা, সুমিতোমো ও সংশ্লিষ্ট অন্য কোম্পানিগুলোকে একটি বার্তা পাঠিয়ে চট্টগ্রামকে বাঁচান। প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজিতে নয়, কোম্পানিগুলো চাইলে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎতে অর্থায়ন করতে পারে। এতে বদলে যেতে পারে এদেশের বিদ্যুৎ খাত, পাশাপাশি রক্ষা পাবে স্থানীয় মানুষ, জীববৈচিত্র্য ও দেশের অর্থনীতি।
ব্যয়বহুল এলএনজি’র বিস্তার: বিদেশিদের এলএনজি-সংক্রান্ত স্বার্থ যেভাবে বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু ঝুঁকি তৈরি করছে
November 2024
বর্তমানে বাংলাদেশ বেশ বড় ধরনের একটি জ্বালানী সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। উচ্চমূল্যে আমদানিকৃত জীবাশ্ম গ্যাস থেকে তৈরি বিদ্যুতের ওপর অতিনির্ভরশীলতার ফলেই দেশে বেড়েছে লোডশেডিংও।
এমতাবস্থায়, বাংলাদেশের উচিৎ ছিলো অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেরি উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য দেশীয় জ্বালানিকে গুরুত্ব দেয়া। অথচ, তা না করে বিদেশী স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ পরিবেশ বান্ধব, সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হতে পারে, যা পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের জন্য কমমূল্যে সাশ্রয়ী বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে পারে।
